বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলন চুক্তির আলোকে বিএইচপি-কে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় এলাকায় অনুসন্ধান লাইসেন্স দেয়া হয়। বিএইচপি ১৯৯৫-৯৭ সময়কালে রংপুর ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন লাইসেন্স এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে ফুলবাড়ী কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা সম্পদের অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। ২০০৪ সালের মার্চে ফুলবাড়ী কয়লাক্ষেত্রের মূল লাইসেন্স এলাকায় খনি ইজারা প্রদান করা হয়। এরই মধ্যে এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লাক্ষেত্রের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে। কয়লাক্ষেত্রের বিস্তৃতি নির্ধারণের জন্য ২০০৩ সালে আরও অনুসন্ধান কূপ খননের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
২০০৪-০৫ সময়কালে দেশি বিদেশি অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে ব্যাপক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়। এই সমীক্ষায় বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক ও হাইড্রোজিওলজিক্যাল তথ্য সংগ্রহ এবং খনি উন্নয়নের সম্ভাব্য বিকল্প পদ্ধতিসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়। সমীক্ষায় নিশ্চিত হয়, ফুলবাড়ী কয়লাক্ষেত্রে ৫৭২ মিলিয়ন টন উচ্চমানের বিটুমিনাস কয়লার মজুদ রয়েছে এবং বার্ষিক ১৫.২ মিলিয়ন টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উন্মুক্ত পদ্ধতির খনি গড়ে তোলা সম্ভব, যা বাংলাদেশের সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় জ্বালানির একটি দীর্ঘমেয়াদি উৎস হবে।